post

চিকুনগুনিয়া

Author: Jolpie | Posted: 6 months before | Health & Immunity
Tags:  নারী স্বাস্থ্য পুরুষ স্বাস্থ্য প্রাথমিক চিকিৎসা

গোঁদের উপর বিষফোড়ার মত এই প্রচণ্ড দাবদাহের সাথে যে নামটি উচ্চারিত হচ্ছে তা হচ্ছে চিকুনগুনিয়া।

এটি একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। Aedes aegypti এবং Aedes albopictus এই দুই প্রকার সংক্রামক মশার মাধ্যমে (সাধারণত স্ত্রী মশা) মানবদেহে চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় বিশেষ করে সকালে এবং বিকালে কামড়ায়।এই দুই প্রকার মশার ভিন্ন প্রজাতি ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাস বহণ করে এবং রোগের উপসর্গ প্রায় একই রকম হওয়ায় অনেক সময় এই তিন রোগের রোগ নির্ণয়ে ভুল হয় বাহ্যিক ভাবে।সংক্রমিত মশার কামড়ের ৪ থেকে ৮ অথবা ২ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।


লক্ষণ/ উপসর্গ সমূহ-

১। মারাত্মক জ্বর এই রোগের প্রথম লক্ষণ, সাধারণত ১০৩-১০৪ ডিগ্রি জ্বর হয়।

২। সাথে থাকে তীব্র গিঁটে গিঁটে (সাধারণত হাতে, পায়ে, হাঁটু, কব্জি, কনুই ও গোড়ালি ) ব্যাথা।এ ছাড়াও পিঠে এবং মাংশপেশিতেও ব্যাথা থাকে।এইসব ব্যাথা এতই তীব্র থাকে যে রোগী ঠিকমত হাঁটতেও পারে না, আর তাই আমাদের দেশে অনেকে একে লেংড়া জ্বর নামেও ডাকেন।

৩। এ ছাড়াও মাথা ব্যাথা, বমি ও বমি ভাব, অবসাদ এবং ফুসকরিও দেখা দেয়।


রোগ নির্ণয়-

সাধারণত দুই পদ্ধতিতে চিকুনগুনিয়া নির্ণয় করা যায়-

ক) ELISA Test- এটি Serological Test (অসুস্থ হওয়ার ৩-৫ সপ্তাহের মধ্যে এই পরীক্ষাটি করা হয়) ।

খ) PCR Test- এটি Virological Test (অসুস্থ হওয়ার ২/১ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষাটি করা যায় কিন্তু সমস্যা একটিই যে এই পরীক্ষাটি শুধুমাত্র IEDCR মহাখালিতে করা হয়)।


চিকিৎসা-

ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এবং এর কোনো প্রতিষেধকও এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি।জ্বর এর জন্য প্যারাসিটামল ২ বেলা এবং ফুসকরির জন্য রুপাটিদিন ১ বেলা অথবা Lotion Kelamin ব্যাবহার করতে পারেন।সাথে পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর পানি খেতে হবে।


অনলাইনে ডাক্তার সিরিয়াল বা পরামর্শ পেতে Download করুন Jolpie App https://goo.gl/oDI59C


করণীয়-

যেহেতু এইসব মশা বদ্ধ পানিতে ডিম পারে তাই বাড়ির আশপাশে যেখানে পানি জমা থাকে প্রতিনিয়ত পরিষ্কার রাখতে হবে, দিনের বেলায় মশাড়ি টাঙিয়ে শুতে হবে, লম্বা হাতা জামা এবং পায়জামা পড়তে হবে মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে হলে।


ডেঙ্গু এর সাথে চিকুনগুনিয়ার সবচাইতে বড় পার্থক্য হল এই রোগের মৃত্যুর ঝুকি কম, কারণ এতে ডেঙ্গুর মত রক্তের অনুচক্রিকা কমে না এবং গিঁটে রক্তক্ষরণও হয় না।এই রোগ থেকে বাঁচতে সাবধানতা অবলম্বন করুন, সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।

Related Article:

ফিট থাকতে যা করি এবং যা করাটাই যথেষ...

ব্যায়াম, ডায়েটিং এবং ঘুমের সুষ্ঠু সমন্বয় করেও নিজেকে ফিট মনে হচ্ছে না? আসলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে খুব বেশি কিছু করতে হয় না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন আসলে আমাদের কি করা উচিত এবং আমরা কি করি। সেই সঙ্গে জানি...

পেটের মেদ কমাতে চান?

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী পান করেন? দুধ অথবা পানি, তাই তো? অনেকেই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস দুধ পান করে থাকেন। কেননা গরম দুধ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমনি এটি দ্রুত ঘুম আনাতে সাহায্য...

হাটার সহজ টিপস

একটু খেয়াল করে বলুন তো, প্রতিদিন আপনি কত ঘণ্টা বসে থাকেন? অফিসের কাজে, পড়ার টেবিলে, বাসে বা গাড়িতে, খাবার টেবিলে, টিভির সামনে, ফেসবুক বা কম্পিউটারের সামনে? যোগ করুন। দীর্ঘ দিন, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে...

শিশুর বমি : ডাঃ সুদ্বেষ রক্ষিত

শিশুর বমি কেনো হয়?শিশুকে জোর করে খাওয়ানো হলে অনেক সময় খাওয়ানোর পর পরই শিশুর বমি হয়ে যায়। অনেক সময় একই ধরণের খাবার বারবার খেতে দাওয়ার ফলে শিশুর অরুচি হয় এবং বমি করে ফেলে দেয়। হঠাৎ করে খাবারে পরিবর্তন আ...

পেপটিক আলসার : ডাঃ ফাইয আহমেদ খন্দক...

কমলবাবুর পেটে আজকাল খুব ব্যাথা। মধ্যবয়সে এসেই তার এ নাজেহাল দশা। ব্যথাটা আসলে পেপটিক আলসার এর। খাওয়া দাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমনটাই হয়। এখন আবার মনে মনে ভাবছেন পেপটিক আলসারটা আবার কি ? চলুন দেখা...

Comments:

Featured Post

post

ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল ঘন করার পদ্ধতি

আমাদের মিথিলা আপু। চুল একদম পাতলা,মাথা খালি হয়ে গেছে। যদিও এখনও কিছুটা চুল আছে। সে এটা নিয়ে খুব টেনশন এ আছে। কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে। এর কাছে, ওর কাছে জিজ্ঞেস করে, কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে। তখনই সে স...
post

সারাদিন কর্মক্ষম থাকার উপায়

আমার কিছু বন্ধু-বান্ধবী আছে যাদের একটাই কথা, ‘সারাদিন ঘুমায় ঘুমায় কাটে’। যদি জিজ্ঞাসা করি কেন, তাহলে তাদের একটাই উত্তর কোন কাজ নেই অথবা কোন কাজ করতে ভালো লাগে না। আরে ভাই ভালো লাগবে কেমনে...
post

গর্ভাবস্থায় কতটুকু ওজন বাড়া স্বাভাবিক? : ডাঃ...

এই সময়ে একজন মায়ের সাধারণত ১০-১২ কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে এটা গর্ভের আগের ওজনের ওপর নির্ভর করে। যাদের ইগও ১৯-এর কম সেসব মায়েরা ১৭ কেজি পর্যন্ত বাড়াতে পারেন তবে ইগও ২৫-এর বেশি হলে ৭...