post

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর করণীয়

Author: Jolpie | Posted: 7 months before | Diabetes
Tags:  নারী স্বাস্থ্য পুরুষ স্বাস্থ্য ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিসের রোগীরা খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ওষুধের নিখুঁত সময়সূচি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলেন। তাই রমজান মাসে তাদের বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়। কেননা অনিয়মের কারণে কখনও কখনও তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে কিংবা কমে যেতে পারে।  


বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় পানিশূন্যতাই এর মূল কারণ। ফলে শরীরের ব্লাড পেশার কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়া, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, হাড় ভেঙে যাওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। কাজেই রোজা রাখার জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের পূর্ব-প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা দরকার।


রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয় : রোজা রাখার জন্য শরীর উপযুক্ত কি না এটাই সর্বপ্রথম ডায়াবেটিস রোগীদের জেনে নেওয়া উচিত। শরীরে শর্করার মাত্রা খুবই অনিয়ন্ত্রিত হলে অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা শর্করাস্বল্পতা, কিটোঅ্যাসিডোসিস বা শর্করার মারাত্মক আধিক্য থাকলে রোজা রাখা উচিত নয়। ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যেমন যকৃতের সমস্যা, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হলেও রোজা না রাখাই ভালো। এই তালিকায় অবশ্য গর্ভবতী ডায়াবেটিস রোগী ও ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন রোগীরাও পড়বেন।


অন্যদের মধ্যে যারা কেবল খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমেই শর্করা নিয়ন্ত্রণ করছেন বা মেটফরমিন, ডিপিপি ৪ ইনহিবিটর বা গ্লিটাজন শ্রেণির ওষুধ খান তাদের রোজা রাখা বেশ নিরাপদ। যারা ইনসুলিন বা ওষুধ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই নতুন করে ওষুধের মাত্রা ও সময় জেনে নিতে হবে।


খাদ্যাভ্যাস : রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যালরির চাহিদা আগের মতোই থাকবে। শুধু খাবার গ্রহণ ও সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হবে। ইফতারে বিকল্প চিনি দিয়ে ইসবগুলের ভুষি, তোকমা, লেবু কাঁচা আম বা তেঁতুল শরবত এসব রোগীদের জন্য উপকারী। ডাব ছাড়া অন্যান্য মিষ্টি ফলের রস না খাওয়াই ভালো। টক ও মিষ্টি উভয় ধরনের ফলের সালাদ খাওয়া যেতে পারে, এতে খনিজ লবণ ও ভিটামিনের অভাব পূরণ হবে। কাঁচা ছোলার সঙ্গে আদাকুচি, টমেটো কুচি, পুদিনা পাতা ও লবণের মিশ্রণ বেশ সুস্বাদু খাবার। কাঁচা ছোলা রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।


সন্ধ্যা রাতে (ইফতার পরবর্তী) খাবার একেবারে বাদ দেওয়া উচিত নয়। কম করে হলেও খেতে হবে। অন্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ হবে রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাবার। রোগী ভাত খেতে পারবে তবে চিকিৎসক কর্তৃক বরাদ্দ খাবারের পরিমাণের দিকে সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। হালকা মসলায় রান্না যে কোনো ছোট-বড় মাছ এবং সবজি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।


সেহরিতে (ভোররাতের খাবারে) রুটি অথবা ভাত রুচি অনুযায়ী গ্রহণ করুন। সেহরির খাবারের পরিমাণ হওয়া উচিত অন্যদিনের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ। সেহরিতে মাছ ও সবজি থাকতে পারে। দুধ অথবা ডাল যে কোনো একটা থাকলে ভালো হয়।

ইফতারে একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অনেক খাবার ধাপে ধাপে ভাগ করে খান। এতে রক্তে হঠাৎই শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে না।


ওষুধ ও ইনসুলিন : রমজানে খাবারের সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিনের মাত্রা ও সময়সূচির অবশ্যই পরিবর্তন হবে। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে দিনের ওষুধগুলোর সময় পরিবর্তন করে রাতে তা গ্রহণ করতে হবে। কারণ ওষুধের মাত্রা রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। এ কারণে নিজ থেকেই ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করা যাবে না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


ব্যায়াম : ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যারা প্রতিদিন রুটিনমাফিক ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করেন। রমজান মাসে তাদের সে রুটিনেও পরিবর্তন আনতে হবে। রোজা রেখে ব্যায়াম ও খুব বেশি হাঁটাহাঁটি করা যাবে না। তবে ইফতারের একঘণ্টা পর ও সেহরির আগে ব্যায়াম করতে পারেন।


সর্তকতা : 

১. ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্য কোনো জটিলতা, যেমন- কিডনির রোগ, উচ্চমাত্রার ইউরিক থাকলে ডালের তৈরি খাবার থেকে বিরত থাকুন।

২. আলসার বা গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা থাকলে ডুবো তেলে ভাজা ও ঝাল যুক্ত খাবার পরিহার করুন।
৩. শরীরের ওজন বেশি থাকলে যতটা সম্ভব কম খাবার গ্রহণ করুন এবং খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
৪. রোজা রেখে অত্যধিক হাঁটা বা ভারী ব্যায়াম থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে শরীরে রক্তের শর্করার মাত্রা নিচে নেমে গিয়ে বিপদ হতে পারে।

Related Article:

ফিট থাকতে যা করি এবং যা করাটাই যথেষ...

ব্যায়াম, ডায়েটিং এবং ঘুমের সুষ্ঠু সমন্বয় করেও নিজেকে ফিট মনে হচ্ছে না? আসলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে খুব বেশি কিছু করতে হয় না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন আসলে আমাদের কি করা উচিত এবং আমরা কি করি। সেই সঙ্গে জানি...

পেটের মেদ কমাতে চান?

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী পান করেন? দুধ অথবা পানি, তাই তো? অনেকেই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস দুধ পান করে থাকেন। কেননা গরম দুধ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমনি এটি দ্রুত ঘুম আনাতে সাহায্য...

হাটার সহজ টিপস

একটু খেয়াল করে বলুন তো, প্রতিদিন আপনি কত ঘণ্টা বসে থাকেন? অফিসের কাজে, পড়ার টেবিলে, বাসে বা গাড়িতে, খাবার টেবিলে, টিভির সামনে, ফেসবুক বা কম্পিউটারের সামনে? যোগ করুন। দীর্ঘ দিন, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে...

শিশুর বমি : ডাঃ সুদ্বেষ রক্ষিত

শিশুর বমি কেনো হয়?শিশুকে জোর করে খাওয়ানো হলে অনেক সময় খাওয়ানোর পর পরই শিশুর বমি হয়ে যায়। অনেক সময় একই ধরণের খাবার বারবার খেতে দাওয়ার ফলে শিশুর অরুচি হয় এবং বমি করে ফেলে দেয়। হঠাৎ করে খাবারে পরিবর্তন আ...

পেপটিক আলসার : ডাঃ ফাইয আহমেদ খন্দক...

কমলবাবুর পেটে আজকাল খুব ব্যাথা। মধ্যবয়সে এসেই তার এ নাজেহাল দশা। ব্যথাটা আসলে পেপটিক আলসার এর। খাওয়া দাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমনটাই হয়। এখন আবার মনে মনে ভাবছেন পেপটিক আলসারটা আবার কি ? চলুন দেখা...

Comments:

Featured Post

post

ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল ঘন করার পদ্ধতি

আমাদের মিথিলা আপু। চুল একদম পাতলা,মাথা খালি হয়ে গেছে। যদিও এখনও কিছুটা চুল আছে। সে এটা নিয়ে খুব টেনশন এ আছে। কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে। এর কাছে, ওর কাছে জিজ্ঞেস করে, কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে। তখনই সে স...
post

সারাদিন কর্মক্ষম থাকার উপায়

আমার কিছু বন্ধু-বান্ধবী আছে যাদের একটাই কথা, ‘সারাদিন ঘুমায় ঘুমায় কাটে’। যদি জিজ্ঞাসা করি কেন, তাহলে তাদের একটাই উত্তর কোন কাজ নেই অথবা কোন কাজ করতে ভালো লাগে না। আরে ভাই ভালো লাগবে কেমনে...
post

গর্ভাবস্থায় কতটুকু ওজন বাড়া স্বাভাবিক? : ডাঃ...

এই সময়ে একজন মায়ের সাধারণত ১০-১২ কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে এটা গর্ভের আগের ওজনের ওপর নির্ভর করে। যাদের ইগও ১৯-এর কম সেসব মায়েরা ১৭ কেজি পর্যন্ত বাড়াতে পারেন তবে ইগও ২৫-এর বেশি হলে ৭...