পেপটিক আলসার

Image

Jolpie Admin

Admin

View full Profile
13 Feb 2018

কমলবাবুর পেটে আজকাল খুব ব্যাথা। মধ্যবয়সে এসেই তার এ নাজেহাল দশা। ব্যথাটা আসলে পেপটিক আলসার এর। খাওয়া দাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমনটাই হয়। এখন আবার মনে মনে ভাবছেন পেপটিক আলসারটা আবার কি ? চলুন দেখা যাক।


সাধারণত লোকজন গ্যাস্টিক বা আলসার বলতে যা বুঝে থাকেন আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলি পেপটিক আলসার। পেপটিক আলসার যে শুধু পাকস্থলীতেই হয়ে থাকে তা কিন্তু নয়; এটি পৌষ্টিকতন্ত্রের যেকোনো অংশেই হতে পারে। সাধারণত পৌষ্টিকতন্ত্রের যে যে অংশে পেপটিক আলসার দেখা যায় সেগুলো হচ্ছে


১। অন্ননালীর নিচের প্রান্ত;

২। পাকস্থলী;

৩। ডিওডেনামের বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ এবং

৪। পৌষ্টিকতন্ত্রের অপারেশনের পর যে অংশে জোড়া লাগানো হয় সে অংশে।



যে কারণে পেপটিক আলসার হয়ঃ


বংশগতঃ কারো নিকটতম আত্মীয়স্বজন, যেমনমা, বাবা, চাচা, মামা, খালা, ফুফু যদি এ রোগে ভুগে থাকেন তবে তাদের পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি।


রোগ-জীবাণুঃ হেলিকো বেক্টারে পাইলোরি নামক একপ্রকার অনুজীব এ রোগের জন্য বহুলাংশে দায়ী।


ওষুধঃ যেসব ওষুধ সেবনে পেপটিক আলসার হতে পারে তার মধ্যে ব্যথানাশক ওষুধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।


ধূমপানঃ ধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি।


তবে সাধারণত যে কথাটা প্রচলিত ভাজা-পোড়া কিংবা ঝালজাতীয় খাবার খেলে পেপটিক আলসার হয় এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে মেলেনি। তবে যারা নিয়মিত আহার গ্রহণ করেন না কিংবা দীর্ঘ সময় উপোস থাকেন, তাদের মধ্যে পেপটিক আলসার দেখা দিতে পারে।



কিভাবে বুঝবেনঃ


ক্ষুধার্ত থাকলে ব্যথাঃ এ জাতীয় রোগী ক্ষুধার্ত হলেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে এবং খাবার খেলে সাথে সাথে ব্যথা কমে যায়।


পেটব্যথাঃ সাধারণত পেটের উপরিভাগের মাঝখানে বক্ষ পিঞ্জরের ঠিক নিচে পেপটিক আলসারের ব্যথা অনুভব হয়। তবে কখনো কখনো ব্যথাটা পেছনের দিকেও যেতে পারে।


রাতে ব্যথাঃ অনেক সময় রাতের বেলা পেটে ব্যথার কারণে রোগী ঘুম থেকে জেগে ওঠে। কিছু খেলে ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আবার ঘুমিয়ে পড়ে।


মাঝে মধ্যে ব্যথাঃ পেপটিক আলসারের ব্যথা সাধারণত সবসময় থাকে না। একাধারে ব্যথাটা কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকে। তারপর রোগী সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যায়।


চিকিৎসা: পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীদের অবশ্যই ধূমপান বন্ধ করতে হবে। ব্যথানাশক ওষুধ অর্থাৎ এসপ্রিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে এবং নিয়মিত খাবার গ্রহণ করতে হবে। মানসিক চাপ থেকে নিজেকে দুরে রাখতে হবে।


সময়মতো পেপটিক আলসারের চিকিৎসা না করলে রোগীর নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন


১। পাকস্থলী ফুটা হয়ে যেতে পারে;

২। রক্ত বমি হতে পারে;

৩। কালো পায়খানা হতে পারে;

৪। রক্তশূন্যতা হতে পারে;

৫। ক্যান্সার হতে পারে এবং

৬। রোগীর বারবার বমি হতে পারে।


কাজেই যারা দীর্ঘমেয়াদি পেপটিক আলসারে ভুগছেন তাদের উচিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। পেপটিক আলসার-জনিত জটিলতা আগে থেকেই শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া।

1 57

Popular Article

Googling your symptoms online?
The Internet is not a doctor and neighter are you. Chat with a real doctor about health
  • Private 1 on 1 chat with a doctor
  • Get a response in 10 min
  • Starts at 100 TK
Chat with a Doctor
Buy Health Package
Consult with a doctor more to make you feel better.
  • Private 1 on 1 chat with a doctor
  • Save time & money
  • 100% care guaranteed
Buy Package
Doctor-icon
Get health tips in your inbox